দিনদুপুরে হত্যা করছে ইসরাইল

Google Alert – সেনাবাহিনী

সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় দিনদুপুরে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে ইসরাইলের বসতি স্থাপনকারীরা। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে রাষ্ট্রনেতাদের তৃতীয় দিনের ভাষণে এ মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ভার্চুয়াল বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দখলদাররা বাড়ি ও জমি পুড়িয়ে দিচ্ছে, গাছপালা ধ্বংস করছে, গ্রামে আক্রমণ চালাচ্ছে। এমনকি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বস্তুত তারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় দিনদুপুরে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে।’ আলজাজিরা।

এছাড়া জেরুজালেম, হেব্রন এবং গাজাসহ বিভিন্ন এলাকার ইসলামি ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় স্থানের ওপর হামলার বিষয়েও কথা বলেছের আব্বাস। তিনি বলেছেন, এসব স্থানে মসজিদ, চার্চ ও কবরস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আব্বাস আরও বলেছেন, ‘চরমপন্থি ইসরাইলি সরকার অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি সংযুক্ত করার প্রকল্পের মাধ্যমে তার ‘বসতি রোগ’ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার নিন্দা করে আব্বাস বলেছেন, ‘ইসরাইলি নাগরিকদের লক্ষ্য করা এবং জিম্মি করা ফিলিস্তিনি জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে না। এমনকি এটা তাদের স্বাধীনতার ন্যায়সংগত সংগ্রামকেও দেখায় না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘হামাস প্রশাসনে কোনো ভূমিকা রাখবে না এবং হামাসসহ অন্যান্য গোষ্ঠীকে রাজ্য গঠনের অংশ হিসাবে তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করতে হবে।’ সমাপনী বক্তব্যে আব্বাস বলেছেন, ‘আমাদের যতই রক্ত ঝরাক, আমাদের কষ্ট যতদিনই চলুক না কেন, এটি আমাদের বাঁচার এবং টিকে থাকার অটল ইচ্ছাকে ভাঙতে পারবে না।’

গ্রেফতার আতঙ্কে ফরাসি আকাশ এড়াল নেতানিয়াহুর বিমান

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। নিউইয়র্ক সিটিতে যাওয়ার পথে নেতানিয়াহুকে বহনকারী বিমান ফ্রান্সের আকাশসীমা এড়িয়ে ইতালি এবং গ্রিসের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে। ফ্লাইট নেভিগেশনের তথ্য থেকে জানা যায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় ফ্রান্সের আকাশসীমায় যায়নি নেতানিয়াহুকে বহনকারী বিমানটি। যদিও ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা ইসরাইলি বিমানের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। তবু বিমানটি উত্তর ইউরোপ এড়িয়ে দক্ষিণ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে উড়ে যায়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া নেতাদের সমালোচনা করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ‘তারা হত্যাকারী, ধর্ষক এবং শিশুদের ওপর হামলাকারীদের নিন্দা না করে ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে চায়। এটি কখনোই ঘটবে না।’ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছেন, সাধারণ অধিবেশনে তিনি ইসরাইলের নাগরিক, সেনা ও জাতির পক্ষ থেকে সত্য তুলে ধরবেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেছেন, তিনি যুদ্ধের বিজয়, বন্দি মুক্তি এবং হামাস পরাস্ত করার পাশাপাশি শান্তি সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এটি হবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার চতুর্থ বৈঠক। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে গাজার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বড় অগ্রগতি হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য ও গাজার জন্য ২১-পয়েন্টের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। যা ইসরাইলের উদ্বেগ এবং অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিবেশীর উদ্বেগ উভয়ের সমাধানে কাজ করবে।

ফিলিস্তিনের ভাগ্য নেতানিয়াহুর হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না : ম্যাক্রোঁ

গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রাখায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বুধবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স-২৪কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনিদের ও ইসরাইলি জিম্মিদের ভাগ্য নেতানিয়াহুর হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। যাদের কাছে জিম্মিদের মুক্তি অগ্রাধিকার নয়।’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে রয়েছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি আরও বলেছেন, ‘জিম্মিদের মুক্তি নেতানিয়াহুর প্রথম অগ্রাধিকার নয়। যদি তাই হতো তাহলে তিনি গাজা সিটি দখলের অভিযান তীব্র করতেন না। এমনকি কাতারের আলোচকদের ওপরও আক্রমণ করতেন না।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *